কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র




সন্দীপ দত্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে কলকাতা শহরে দেড় হাজার সাময়িকী পত্র-পত্রিকা নিয়ে শুরু করেন কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে শুরু হওয়া এই প্রচেষ্টাটি আজ ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ পত্রিকার সংগ্রহালয় হিসেবে গণ্য। 


সন্দীপ ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে েকলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজের একুশ বছর বয়সী বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিল। সে সময় ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারে পত্র-পত্রিকা সন্ধান করতে গিয়ে সেগুলির প্রতি চূড়ান্ত অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাব লক্ষ্য করেন তিনি। কলকাতার সবচেয়ে বড় গ্রন্থাগারে পত্র-পত্রিকার এই অবস্থা দেখে সন্দীপ দত্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে শুধুমাত্র পত্র পত্রিকার পঠন-পাঠন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন। এই বছর ২৭ থেকে ৩০শে সেপ্টেম্বর, তিনি নিজের বাড়ীতে ৭৫০টি পত্র-পত্রিকা নিয়ে একটি প্রদর্শনী করেন। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বইমেলায় সন্দীপ দত্ত তাঁর পত্র-পত্রিকার সংগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৩শে জুন মাসে কলকাতার ১৮/এম টেমার লেনে তাঁর পৈতৃক বাড়ির একতলায় তিনি বাংলা সাময়িকপত্র পাঠাগার ও গবেষণা কেন্দ্র নামক একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেন। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দের ৮ই মে গ্রন্থাগারটির সদস্যপদ জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে এই প্রতিষ্ঠানকে নথীভুক্ত করা হয় এবং নতুন নামকরণ করা হয় কলিকাতা লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র। এই বছর (২০১৭) লাইব্রেরি চার দশক পূর্ণ করে। 

বর্তমানে এই গ্রন্থাগারে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় ছয় হাজার সাময়িকী পত্র-পত্রিকা ও দুই হাজার কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। এই পাঠাগারে সবুজপত্র, কল্লোল, লাঙ্গল, সংহতি, প্রগতি, ময়ুখ, কালি কলম, পরিচয়, বঙ্গলক্ষ্মী, নবযুগ, ধুমকেতু, নাচঘর, পূর্বাশা, কবিতা, চতুরঙ্গ, অরণি, সমসাময়িক, গল্পভারতী ইত্যাদি দুর্লভ ও বিখ্যাত পত্রপত্রিকা রয়েছে।


মন্তব্যসমূহ

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ