বাংলা লিটল ম্যাগ ও ডিজিটাল অর্কাইভিং— কিছু কথা || দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
বছরদুয়েক আগে এক অগ্রজ সম্পাদকের আদেশে মুজতবা সিরাজের “মায়ামৃদঙ্গ” বইটার মূল্যায়ন করে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম তাঁর পত্রিকার বইমেলা সংখ্যায়। তা, গেল বছর মেলায় গেছি তখন এক সমব্যবসায়ী এসে চোখটোখ কুঁচকে ভারী ‘গোপন’ একখানা খবর দিলেন, “দাদা, আপনার সেই লেখাটা না ঝেড়ে দিয়ে আরেকটা লিটল ম্যাগাজিনে ছেপেছে। কাল দেখেছি।” বললাম, “অন্যের নামে?” “না না, নামটা আপনারই রেখেছে, কিন্তু পারমিশানটিশান কি নিয়েছে নাকি কিছু? মনে তো হয় না। এইসব জোচ্চোর…” এহেন দশায় আমাদের ভারী রেগে গিয়ে আকাশের দিকে মুখ তুলে সেই জোচ্চোরের উদ্দেশ্যে দুচারটে গাল দেয়াটাই বর্তমান বাংলাসাহিত্যের নাগরিক পল্লীসমাজের দস্তুর। এই যেমন, ‘কী খচ্চর’,‘দাঁড়াও দেখে নিচ্ছি ব্যাটাকে’, ‘কী সাহস—’ ইত্যাদি। অন্যথায় অভিযোগকারী মনে দাগা পায়। ফলে আমিও বন্ধুকে সুখী করবার জন্য নিয়মমাফিক দু চারপিস কাঁচা দিয়ে তারপর তাঁকে বিদেয় করে পত্রিকাটা খুঁজতে চলে গেলাম। আসলে আমার মনে বেজায় আনন্দ হচ্ছিল। কারণটা বলি। কপিরাইট নামক বস্তুটার বাংলা সাহিত্যের উঠুনে এমনিতেই কোনো ঐহিক মূল্য নেই, কারণ বাংলা ভাষায় গপ্পো, কবিতা কিংবা জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ লিখে আর যাই...


