বাইশে শ্রাবণ চলচ্চিত্র সম্পর্কে মলয়রায় চৌধুরী

‘বাইশে শ্রাবণ’ এ গৌতম ঘোষ কতটা পেরেছেন আপনার ম্যনারিজম ফুটিয়ে তুলতে? রোলটা কি আপনি নিজেই করতে চান কখনো? কোন পরিবর্তন হবে তাহলে স্ক্রিপ্টে ?

মলয়

মলয়রায় চৌধুরী: ‘ওটা একটা মোস্ট ইডিয়টিক রিপ্রেজেন্টেশান। গৌতম ঘোষের সঙ্গে আমার একবারই দেখা হয়েছিল, শান্তিনিকেতন যাবার ট্রেনে। জানি না উনি কোন হাংরি কবির ম্যানারিজম ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আমাদের উত্তরপাড়ার আদিবাড়ি ওই রকম খণ্ডহর হয়ে গিয়েছিল বটে, কিন্তু আমরা কেউই লেখা ছাপাবার জন্য হাপিত্যেশ করতুম না। নিজেরাই ছাপাতুম আর বিলি করতুম, কোনো লিটল ম্যাগাজিনকে অনুরোধ করতে হয়নি কখনও লেখা ছাপাবার জন্য। কেউ যদি ফিল্ম করতে চায় তাহলে একেবারে প্রথম থেকে হাংরি আন্দোলনকে নিয়ে ফিল্ম করতে হবে। কোনো ফিল্মে অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাংরি আন্দোলনকে ঢুকিয়ে দেয়াটা ইডিয়টিক। বিট আন্দোলন নিয়ে, অ্যালেন গিন্সবার্গকে নিয়ে, র্যাঁ বোকে নিয়ে ফিল্ম হয়েছে, কিন্তু কোনোটাই বাইশে শ্রাবণের মতন ইডিয়টিক ফিল্ম নয়।’

উইকিপিডিয়ায় পাওয়া তথ্যঃ
এই চলচ্চিত্রে গৌতম ঘোষ অভিনীত হাংরি আন্দোলনকারী চরিত্রটির সঙ্গে ষাটের দশকে মলয় রায়চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সমীর রায়চৌধুরী ও দেবী রায় পরিচালিত সাহিত্য আন্দোলনটির কোনো সম্পর্ক নেই । নিবারণ চক্রবর্তী চরিত্রটি কাল্পনিক এবং কোনো হাংরি আন্দোলনকারী তাঁদের রচনা প্রকাশ করার জন্য এই উন্মাদ চরিত্রটির মতো কাউকে ধরাধরি করতেন না। তাঁরা লিফলেট অথবা বুলেটিনের আকারে নিজেদের রচনা প্রকাশ করতেন এবং সেগুলি কলকাতার কফিহাউস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদপত্র দফতরে বিনামূল্যে বিলি করতেন। তাঁদের কেউই কলকাতার বইমেলায় অগ্নিসংযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল তা আইপিসি ১২০(বি) ও ২৯২ ধারায়, মলয় রায়চৌধুরী রচিত প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার কবিতাটির জন্য। নিম্ন আদালতে মলয় রায়চৌধুরীর এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ হলেও কলকাতা উচ্চ আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছিল। প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার (চলচ্চিত্র) কবিতাটি নিয়ে একটি ছোটো চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে। 




মন্তব্যসমূহ